আমেরিকানরা ব্যথার ওষুধ থেকে শুরু করে অ্যান্টিবায়োটিক পর্যন্ত ফার্মাসিউটিক্যালসে প্রতি বছর গড়ে প্রায় $ 1,000 ব্যয় করে। 

কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন যে, সেই ওষুধগুলো কীভাবে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধে কাজ করে ও ওষুধ গুলো কীভাবে জানতে পারে যে আমাদের শরীরে প্রবেশ করার পর  কোথায় কিভাবে যেতে হবে?

ব্যাকটেরিয়া চিত্র

Oklahoma Medical Research Foundation President Dr. Stephen Prescott বলেছেন“Drugs have no idea where to go when you take them.”আমাদের শরীরে এমন একটি স্মার্ট সিস্টেম আছে যা ওষুধ পাওয়ার জন্য ও প্রয়োজন বোঝার জন্য যথেষ্ট বুদ্ধিমান এবং সিস্টেমটি বুজতে পারে  যে কোথায় ওষুধের কোন উপাদান টি প্রয়োজন।

যখন আপনি একটি ট্যাবলেট গ্রহণ  করেন, এটি পেট এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্য দিয়ে যকৃতে প্রবেশ করে, পাকস্থলীতে পৌঁছে এটি ভেঙে গিয়ে এর উপাদান এবং অবশিষ্টাংশগুলি রক্ত ​​প্রবাহের সাথে একটি যাত্রা শুরু করে এবং ওষুধের ক্ষুদ্র অংশ গুলো রক্তের সাথে শরীরের সমস্ত অঙ্গ এবং টিস্যুতে পৌছায়। যদিও ওষুধ আমাদের সারা শরীরে রক্তের সাথে মিশে সারা শরীরে ভ্রমণ করে, প্রতিটি ওষুধ রিসেপ্টর নামক কিছু প্রোটিন অণুকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। 

যেমন, আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসিটামিনোফেনের মতো ব্যথার ওষুধের ক্ষেত্রে, তারা রক্ত ​​প্রবাহের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ব্যথা এবং প্রদাহ দ্বারা উৎপন্ন নির্দিষ্ট রিসেপ্টরগুলি অনুসন্ধান করে। এই প্রক্রিয়াটিকে তালা এবং চাবির মতো কল্পনা করা যেতে পারে। ধরুন আপনার শরীরে রক্তের সাথে চাবি মিশিয়ে একটি যাত্রা শুরু হলো এখন চাবি গুলোর লক্ষ্য হচ্ছে শরীরের ভেতর নির্দিষ্ট তালা গুলোকে খুজে বের করা ও তালার সাথে নিজেকে ফিট করা।চাবি গুলো কিন্তু ততক্ষণে কাজ শুরু করবে না যতক্ষণ সে তার জন্য নির্দিষ্ট তালাটিকে খুজে পায়। 

ওষুধের টার্গেট স্পটে অর্থাৎ ধরুন আইবুপ্রোফেনের ক্ষেত্রে এটা হাঁটুতে ব্যথা হলে – ওষুধের অণুগুলি টার্গেট স্পটের রিসেপ্টরগুলির উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় রিসেপ্টর গুলির সাথে লেগে যায়। এবং যতক্ষণ না এটি সেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আবদ্ধ হয় ততক্ষণ ওষুধটি তার কাজ শুরু করে না।যখন ওষুধটি তার লক্ষ্যে পৌছাবে সাথে সাথেই নির্দিষ্ট স্পটের কোষ গুলির সাথে একটি বিক্রিয়া ঘটিয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রভাব অর্জন করে। যেমন আইবুপ্রোফেনের ক্ষেত্রে ব্যাথা হ্রাস করবে।

 

ব্যাকটেরিয়া

এবার তাহলে টিকা ও এন্টিবায়োটিক  কীভাবে কাজ করে? 

টিকা হচ্ছে সেই  জৈব রাসায়নিক যৌগ যা অ্যান্টিবডি তৈরী হওয়ার প্রক্রিয়ায় দেহে কোন একটি রোগের জন্য প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অনাক্রম্যতা জন্মাতে সাহায্য করে।  টিকা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধে কিভাবে কাজ করে তা জানার আগে আমাদের জানতে হবে যে আমাদের শরীর বিভিন্ন অসুখের বিরুদ্ধে কিভাবে লড়াই করে। যখন কোনো ব্যক্টেরিয়ার বা ভাইরাস আমাদের শরীরে প্রবেশ করে তখন তার প্রথম কাজই হচ্ছে আমাদের শরীরের স্বাভাবিক কার্যাবলীর উপর আক্রমণ করে নিজের বংশ বৃদ্ধি করা বা সংক্রমণ করা। বহিরাগত এই আক্রমণকেই ইনফেকশন বা সংক্রমণ বলা হয় যার কারনে আমরা বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতায় ভুগি। 

ব্যাকটেরিয়ার বংশ বিস্তার

এন্টিবায়োটিক হচ্ছে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস এর কিছু অংশ বা উপাদান যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসকে ধ্বংস করার জন্য ও বংশবৃদ্ধি রোধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। বাইরে থেকে এন্টিবায়োটিক হিসেবে যে ব্যাকটেরিয়া দেয়া হচ্ছে তারা নিজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে না বিধায় নিজেদের অঞ্চল থেকেই তাদের খাদ্য সংগ্রহ করতে হয়। তখন তারা তাদের অঞ্চলে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া গুলোর সাথে লড়াই করে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া গুলোকে ধ্বংস করে এন্টিবায়োটিক তৈরি করে।  এই এন্টিবায়োটিক ই আমরা ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করি।

সাধারণত একেক এন্টিবায়োটিক  একেক ধরনের প্রকৃয়ায় অন্যান্য অনুজীবের বিরুদ্ধে কাজ করে। অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে তবে ভাইরাস এর বিরুদ্ধে কাজ করে না। অ্যান্টিবায়োটিক হচ্ছে আরও বড় জীবাণু নাশক শ্রেনীর সদস্য যার মধ্যে আছে নানা প্রকার অ্যান্ট-ভাইরাল,  অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ইত্যাদি।  

ধরুন, রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার দল কোনো ব্যাক্তি বা প্রানীর দেহে প্রবেশ করলো একপর সে একটি উন্মুক্ত পরিবেশ পাওয়া মাত্রই তার বংশ বৃদ্ধি করতে শুরু করলো, ম্যাথমেটিকের এর ভাষায় যাকে বলে “এক্সপোনেশিয়াল গ্রোথ”। 

আর প্রানীর দেহে কি ধরনের ব্যাকটেরিয়া ঢুকেছে তার উপর নির্ভর করে সংক্রমণের ধরন।ধরি, কোনো প্রানির দেহে Streptococcus Pneumoniae প্রবেশ করলো। শরীরের প্রতিরক্ষা সিস্টেমকে ফাকি দিয়ে পৌঁছে গেলো সরাসরি ফুসফুসে।  সেখানে গিয়ে নানা বাধা পাড়ি দিয়ে শুরু করলো বংশ বৃদ্ধি। 

সুযোগ পেয়ে কীভাবে ফুসফুসে গেলো তা নিয়ে একটু বলা যাক,  কারো শরীরের ভেতরে হয়তো  Streptococcus Pneumoniae ব্যাকটেরিয়া ঢুকে গেলো,  ব্যাক্তি এবং ব্যাকটেরিয়া ভালোই জীবনযাপন করছে। এবং ব্যাক্তিটি কোনো ভাবে কোনো একদিন ঠান্ডা লাগিয়ে বসলো আর তখনই ব্যাকটেরিয়ার দল সুযোগ পেয়ে গেলো ফুসফুসে সংক্রমণ করার। 

নিউমোনিয়া, টিটেনাস, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, সিফিলিস, গনোরিয়া, কুষ্ঠ সহ পৃথিবীর মারাত্মক আর ভয়ংকর অনেক রোগের পেছনে কলকাঠি নাড়ে এই ব্যাকটেরিয়া।  শুধুমাত্র যে Streptococcus Pneumoniae ব্যাকটেরিয়ার কারনে নিউমোনিয়া হয় ব্যাপারটি কিন্তু তেমন নয়।  নিউমোনিয়া হতে পারে অন্য ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস এর অ্যাটাকেও।  তাই নিউমোনিয়া হলেই যে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সাড়াতে হবে ব্যাপারটি কিন্তু তেমনো না সবার আগে পরিক্ষা করাতে হবে যে নিউমোনিয়া হওয়ার পেছনে কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দায়ী। 

ভাইরাস

তবে, এটাও মনে রাখতে হবে ভাইরাস জনিত কারনে যদি নিউমোনিয়া হয় তাহলে কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক এ কাজ হবে না।  কারন ভাইরাস ধ্বংসে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে একটি ক্ষুদ্র অণুবীক্ষনিক জীব। আর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করে ব্যাকটেরিয়া  ধ্বংস করে। যেমন,  পেনিসিলিন নামক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর ধ্বংস করে। ফলে ব্যাকটেরিয়া আর পোষকদেহে টিকে থাকতে পারে না। আবার ভাইরাসের কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার মতো কোনো কোষপ্রাচীর নাই। তাই অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাস দমন করতে পারে না। আবার পৃথিবীর সব ধরনের ব্যাকটেরিয়াকেও কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে ধ্বংস করা যায় না। আবার একেক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার জন্য একেক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক এর প্রয়োজন হয়। 

ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ

বিনা প্রয়োজনে বা রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এন্টিবায়োটিক সেবন থেকে বিরত থাকা জরুরি।এই বিষয়ের উপর পরবর্তী আর্টিকেল এ আলোচনা করা হবে।

Nirjon Niyaz (Tariq)

Administator of WHQ Bangla

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *