আচ্ছা, আপনি কি কখনো এমনটা কল্পনা করেছেন যে অন্য একটা মহাবিশ্বের কোনো এক পৃথিবী নামক গ্রহে আপনারই মতো আরো একটা সত্বা আছে। মানে আপনার অস্তিস্ব একই সাথে দুইটি মহাবিশ্ব! অথবা আরো অসংখ্য মহাবিশ্বে আপনার অসংখ্য সত্ত্বার অস্তিত্ব রয়েছে ! 


এমন সব কাহিনি কিন্তু আমরা অনেক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি তে পেয়ে থাকি আবার অনেক সাই-ফাই মুভিতেও এই ঘটনা ঘটে।


তো বিজ্ঞান উৎসাহী বন্ধুরা আজকের আর্টিকেল এ আলোচনা করবো বহু-মহাবিশ্ব বা মাল্টিভার্স নিয়ে। 


মাল্টিভার্স কি?


মাল্টিভার্স বা বহু-মহাবিশ্ব অথবা অধি-মহাবিশ্ব (ইংরেজি: Multiverse)  হল মহাবিশ্বগুলির অনেকগুলো সম্ভাব্য সেট, যার মধ্যে, আমরা যে মহাবিশ্বে বসবাস করি সেটিও অন্তর্ভুক্ত। মাল্টিভার্স তত্ত্ব প্রস্তাব করে যে,  আমাদের মহাবিশ্ব, যার আছে শত শত বিলিয়ন গ্যালাক্সি এবং প্রায় অগণিত নক্ষত্র, এবং যা কোটি কোটি আলোকবর্ষ জুড়ে বিস্তৃত, এই মহাবিশ্বটি একমাত্র মহাবিশ্ব হতে পারে না।  পরিবর্তে, একটি বা একের অধিক ও আমাদের থেকে অনেক দূরে – সম্পূর্ণ ভিন্ন আরো অনেক মহাবিশ্ব হতে পারে।
প্রকৃতপক্ষে, মহাবিশ্বের  অসীমতা থাকতে পারে, তাদের পদার্থবিজ্ঞানের নিজস্ব নিয়ম, তাদের নিজস্ব নক্ষত্র এবং ছায়াপথ এবং এমনকি তাদের নিজস্ব বুদ্ধিমান সভ্যতাও থাকতে পারে।

ইউনিভার্স


এটা হতে পারে যে বহুবিশ্বের অনেক বড় সংখ্যা,আমাদের মহাবিশ্ব তার একটি সদস্য মাত্র।
অনন্ত মহাবিশ্ব বা Multiverse এর তত্ত্ব অনুযায়ী আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্ব একটি নয়, বরং অসংখ্য। এই ধারণাটি বিগ ব্যাং তত্ত্বের পরবর্তী Theoretical ডেভেলপমেন্ট এর মাধ্যমে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জগতে স্থান করে নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আমাদের মহাবিশ্ব যদি কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের মধ্য দিয়ে স্থান-কালের শূন্যতার ভিতর দিয়ে আবির্ভূত হয়ে থাকে, তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি কিন্তু একাধিকবার ঘটতে পারে, এবং হয়ত বাস্তবে তাই-ই ঘটেছেও।

Multiverse. Conceptual computer artwork of multiple universes (spherical) making up the multiverse, also called the meta-universe or metaverse. This is the hypothetical set of possible universes, and includes all of space and time, and all forms of matter and energy, and also other forms of the laws of nature. On the surface of each expanding sphere (universe) are the galaxies and the larger chains (orange) of galactic clusters.


 এই একাধিক মহাবিশ্বের অস্তিত্বের ব্যাপারটি প্রথমে এডোয়ার্ড ট্রিয়ন আর পরবর্তীকালে মূলতঃ আঁদ্রে লিন্ডে এবং আলেকজাণ্ডার ভিলেঙ্কিন-এর গবেষণা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

মনে করা হয়,
ইনফ্লেশনের মাধ্যমে সম্প্রসারিত মহাজাগতিক বুদ্বুদ থেকে আমাদের মহাবিশ্বের মতই অসংখ্য মহাবিশ্ব তৈরী হয়েছে, যেগুলো একটা অপরটা থেকে সংস্পর্শবিহীন অবস্থায় দূরে সরে গেছে।
এ ধরনের অসংখ্য মহাবিশ্বের একটিতেই হয়ত আমরা অবস্থান করছি অন্য গুলোর অস্তিত্ব সম্বন্ধে একেবারেই জ্ঞাত না হয়ে। 

কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন


স্ট্রিং থিউরির গণনা থেকে জানা গিয়েছে যে, ১০৫০০টির মতো ভ্যাকুয়াম স্তরের তথা মহাবিশ্বের অস্তিত্ব থাকতে পারে । দীর্ঘদিন ধরে এই তত্ত্বকে যাচাইযোগ্যতা এবং পরীক্ষণযোগ্যতার অভাবে অভিযুক্ত করা হলেও সম্প্রতি বহু মহাবিশ্বের কিছু পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে।
বহু বিজ্ঞানী মাল্টিভার্সের অস্তিত্বের জন্য আরো ফিজিক্যাল , হার্ড প্রমাণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন।  উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি প্রতিবেশী মহাবিশ্ব আমাদের অনেক আগে থেকে ঘটে থাকে, তাহলে এটি আমাদের মহাবিশ্বের সাথে সংঘর্ষ হতে পারে, যা একটি সনাক্তযোগ্য ছাপ তৈরি করে।

মহাবিশ্ব

Nirjon Niyaz (Tariq)

The Administrator Of WHQ Bangla

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *