পিঁপড়া সম্পর্কে অজানা তথ্য

পৃথিবীতে যত প্রাণী রয়েছে তাদের মধ্যে একতাবদ্ধ প্রাণীদের আলাদা করলে পিপঁড়াদের নাম বিশেষ ভাবে উঠে আছে।ছোট্ট এই প্রাণীটি আকারে ক্ষুদ্র হলেও এদের জীবনযাপন পদ্ধতি খুবই আশ্চর্যজনক।

আজ থেকে প্রায়  11-১৩ কোটি বছর পূর্বে মধ্য ক্রেটাশস্ পর্যায়ে বোলতা থেকে বিবর্তিত হয় পিপঁড়া। এপর্যন্ত পিপঁড়ার 22000 প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়েছে। বাংলাদেশে যার 120টি প্রজাতি পাওয়া যায়।পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই এদের দেখা মেলে।শুধু এন্টার্কটিকা এবং এরকম কিছু এলাকা বাদে সব জায়গাতেই পিপড়াদের দেখা মেলে। পিপঁড়াদের বিভিন্ন ভাগ রয়েছে।যেমন লাল পিপঁড়া,কালো পিপঁড়া, ডেয়ো পিপঁড়া, বিষ পিঁপড়ে,ক্ষুদে পিপঁড়া প্রভৃতি।কিছু কিছু এলা সবুজ রঙের পিপঁড়ারও দেখাও মেলে।

পিপঁড়ারা উপনিবেশ তৈরি করে বসবাস করে।প্রতি উপনিবেশ কয়েক ডজন থেকে লক্ষাধিক পিপঁড়া থাকতে পারে । সব উপনিবেশেই প্রজননক্ষম পুরুষ পিপঁড়া এবং এক বা একাধিক রানী পিপঁড়া থাকে।রানী পিপঁড়ারা ডিম থেকে কয়েক লক্ষ বাচ্চা উৎপাদন করে।প্রতি উপনিবেশ 3 ধরনের পিপঁড়া দেখা যায়।কর্মী পিপঁড়া,যারা মূলত বন্ধ্যা,সৈন্য পিপঁড়া এবং রানী পিপঁড়া।পুরুষ পিপঁড়ারা মিলনের পরই মারা যায়।বসন্তকালে এদের কলোনিতে রানী ও পুরুষ পিপঁড়া জন্মায়।এরা সবাই মিলে একটি প্রাণীর মত আচরন করে যাকে “সুপার অর্গানিজম” বলে।

পিঁপড়া

এবার পিপড়া নিয়ে কিছু অজানা তথ্য জেনে নেই।

অদ্ভুত হলেও সত্য যে পিপড়াদের কান নেই।এদের হাঁটু ও পায়ে বিশেষ ধরনের সেন্সিং ভাইব্রেশন থাকে যার মাধ্যমে মাটির ভাইব্রেশন থেকে এরা অন্য প্রাণীর চলাচল বুঝতে পারে। অন্যান্য পোকামাকড় থেকে এদের মস্তিষ্ক বড় যাতে রয়েছে 2লক্ষ 50 হাজার বেশি কোষ।এরা নিজেদের ওজনের থেকেও 20গুন বেশি ওজন বহন করতে পারে। এদের কোনো ফুসফুস নেই,শরীরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্রের মাধ্যমে ভেতরে বাহিরে অক্সিজেন চলাচল করে। পিঁপড়েদের ফুসফুস না থাকলেও পাকস্থলী 2 টি।একটিতে তারা নিজেদের জন্য আরেকটিতে অন্যের জন্য খাদ্য জমা করে।এরা চলার পথে ফেরোমন নির্গত করে যার মাধ্যমে অন্যান্য পিপঁড়ারা বাকিদের অনুসরন করে।এদের জীবনকাল সাধারনত 28 বছর তবে রানী পিপঁড়া 30 বছর পর্যন্তও বাঁচতে পারে। মৃত পিপঁড়া থেকে এক ধরনের রাসায়নিক বের হয় যা থেকে বাকি পিপঁড়ারা মৃত পিপঁড়ার খবর বুঝতে পারে এমনকি এই রাসায়নিক অন্য পিপঁড়ার দেহে লাগল সেও মারা যেতে পারে। পিপড়েরা কখনো ঘুমায় না।এমনকি পানির নিচেও এরা 24 ঘণ্টা জীবিত থাকতে পারে। আরেকটি অবাক করার বিষয় হলো বিশ্বের জনসংখ্যার যত ওজন তা সমস্ত পিপঁড়ার ওজনের সমান।

পিঁপড়া

আশা করি এখন থেকে পিপঁড়া দেখলে তাদের এসব চমৎকার তথ্য মনে আসবে।

লিখেছেনঃ

নাজিয়া ফারজানা

photo from- unsplash

Leave a Reply

Your email address will not be published.