দুর্গোৎসব হচ্ছে হিন্দু দেবী দুর্গার পূজাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত একটি উৎসব। দেবীদুর্গার পূজা করারকে কেন্দ্র করে দুর্গাপূজা সমগ্র হিন্দুসমাজেই প্রচলিত। তবে আমাদের বাঙালি হিন্দু সমাজে এটি অন্যতম বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব হিসেবে পালিত হয় । আশ্বিন বা চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে দুইটি দুর্গাপূজা করা হয়। আশ্বিন মাসের দুর্গাপূজাকে বলা হয় শারদীয়া দুর্গাপূজা এবং চৈত্র মাসের দুর্গাপূজাকে বলা হয় বাসন্তী দুর্গাপূজা ।


হিন্দু সমাজে শারদীয়া দুর্গাপূজার জনপ্রিয়তা বেশি। আর বাসন্তী দুর্গাপূজা মূলত কয়েকটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং খুব কম পরিবারই পালন করে থাকে। 


দুর্গা পুজোর শুরুটা হয়েছিল বহু প্রাচীন কালেই । তবে দুর্গা পুজো শুরুর ইতিহাসটির সঠিক যথার্থ নথি না পাওয়া গেলেও, বৈদিক সাহিত্য থেকে দুর্গার পরিচয় জানা যায়।
দুর্গাপূজার ইতিহাস নিয়ে অনেক গুলো মতামত  আছে,


অনেকের মতে মোঘল আমল থেকেই ধনী পরিবারগুলিতে দুর্গা পুজো করা হত।


আবার ইতিহাস বলছে দেবীর পুজো সম্ভবত ১৫০০ শতকের শেষ দিকে প্রথম শুরু হয়।


কারোর মতে দিনাজপুর- মালদার জমিদার স্বপ্নাদেশের পর প্রথম  পারিবারিক দুর্গা পুজো  শুরু করেছিলেন।


অন্য সূত্রানুসারে, তাহেরপুরের রাজা কংসশনারায়ন বা নদীয়ার ভবানন্দ মজুমদার বাংলায় প্রথম শারদীয়া বা শরৎ দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত করেন। পরবর্তীতে রাজশাহীর রাজা এবং বিভিন্ন গ্রামের হিন্দু রাজারা প্রতি বছর এই পুজো শুরু করেন।
তারপর থেকে গোটা বাংলায় দুর্গা পুজোর প্রবল প্রচার হয় এবং বর্তমানে এটি বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।


আবার কলকাতায় ১৬১০ সালে বারিশার রায়চৌধুরী পরিবার প্রথম দূর্গাপুজার আয়োজন করেছিল বলে জানা যায়।
১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভের পর রাজা নবকৃষ্ণদেব লর্ড ক্লাইভের সন্মানে কলকাতার শোভা বাজার রাজবাড়িতে  দূর্গাপূজার মাধ্যমে বিজয় উৎসবের আয়োজন করেছিলেন।
পরবর্তীতে ব্রিটিশ বাংলায় এই পূজা ক্রমশঃ বৃদ্ধি পায় এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে দূর্গাপুজো স্বাধীনতার প্রতীক হিসাবে জাগ্রত হয়।


এবং ১৯১০ সালে কলকাতায় প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে বারোয়ারি পুজোর শুরু হয়। সনাতন ধর্মতসাহিনি সভা, বাগবাজারে সার্বজনীনে একটি দুর্গোৎসবের সূচনা করেন যা সম্ভব হয়েছিল জনসাধারণের সহযোগিতার সাহায্যে।

ইতিহাসের  ভিন্ন মতে  দুর্গার রূপও ছিল ভিন্ন রকম।
লোককথা মতে আদি দুর্গার চোখ গোলাকার ও উজ্জ্বল এবং দেবী সাদা বাঘ ও সবুজ সিংহের উপর বিরাজ করেন।

দুর্গা হচ্ছে “যিনি দুর্গতি বা সংকট থেকে রক্ষা করেন”

“যে দেবী দুর্গম নামক অসুরকে বধ করেছিলেন” 


দেবী দূর্গা হিন্দু দেবী পার্বতীর এক উগ্র রূপ। তিনি একজন জনপ্রিয় দেবী। হিন্দুরা দুর্গাকে মহাশক্তির একটি উগ্র রূপ মনে করেন।
তার অনেক রূপ, তার মধ্যে কালী রূপটি অনেক জনপ্রিয়‌।


তার অন্যান্য নামসমূহ হল চণ্ডিকা, যোগমায়া, অম্বিকা, বৈষ্ণবী, মহিষাসুরসংহারিণী নারায়ণী, মহামায়া, কাত্যায়নী।
দেবী দুর্গার অনেকগুলি হাত। হাতের সংখ্যার উপরেই  তার অষ্টাদশভুজা (মানে আঠেরো-হাত যুক্ত), ষোড়শভুজা, দশভুজা, অষ্টভুজা ও চতুর্ভূজা মূর্তি দেখা যায়। তবে দশভুজা রূপটিই বেশি জনপ্রিয়। তার বাহন সিংহ (কোনো কোনো মতে বাঘ)। মহিষাসুরমর্দিনী-মূর্তিতে তাকে মহিষাসুর নামে এক অসুরকে বধরতা অবস্থায় দেখা যায়।


হিন্দুধর্মে দেবী দুর্গা পরমা প্রকৃতি ও সৃষ্টির আদি কারণ।
তিনি শিবের স্ত্রী পার্বতী। কার্তিক ও গণেশের জননী, এবং কালীর অন্যরূপ।
বাংলা মঙ্গলকাব্যগুলিতে এবং আগমনী গানে দুর্গারূপে শিবজায়া হিমালয়দুহিতা পার্বতীর সপরিবারে পিতৃগৃহে অবস্থানের আনন্দময় দিনগুলির (দুর্গাপূজা) এবং তার বিবাহিত জীবনের অপূর্ব বর্ণনা পাওয়া যায়।
দেবী পার্বতী দেবতাদের অনুরোধে দুর্গম অসুর কে বধ করেন তাই দেবী পার্বতী দুর্গা নামে অভিহিত হন।

কূর্ম, মৎস, বরাহ,দেবী ভাগবত পুরাণ অনুসারে, ঋষি বিশ্বামিত্র কুমার কার্তিক, গণেশ কে প্রশ্ন করেন যে তাদের মাতার নাম দুর্গা কেন?
তারা বলে হিরণাক্ষ পুত্র রুরুর বংশধর দুর্গম সমুদ্র মন্থনে অসুরদের সাথে ছলনা করা ও তার পিতার মৃত্যুর প্রতিশোধ রূপে ব্রহ্মার কাছে বর চায় যে তাকে এমন এক নারী বধ করবে যে অনাবদ্ধ কে আবদ্ধ করে।
দুর্গম অসুর চতুর্বেদ কে হস্তগত করলে সৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষায় দেবী পার্বতী এক দশভুজরূপী মঙ্গলময় দেবী রূপে আবির্ভূত হন তারপর দুর্গম কে শূলের আঘাতে বধ করেন।


দেবী পার্বতী হলেন স্বয়ং মহাকালী, সৃষ্টিতে একমাত্র আবদ্ধ নয় সময় বা কাল , কাল চিরন্তন সত্য , এবং সেই কালকে পীষ্ঠ করেন মহাকাল শিব আর মহাকালকে পদতলে দমন করেছেন স্বয়ং দেবী মহামায়া । 
বিন্ধাচলে ১০ দিন ব্যাপী মহাযুদ্ধে দেবী দূর্গমাসুরের কোটি সৈন্যকে নিধন করেন এবং দূর্গমাসুরকে অদ্বৈত ব্রহ্মের জ্ঞান দান করেন এবং বলে দেবী হলেন পরমা শক্তি দেবী ভিন্ন শিব কেবল জড় বস্তু , দেবীর শক্তিতেই ব্রহ্মা সৃজন , বিষ্ণু পালন এবং রুদ্র সংহার করেন এবং এরপর দেবী দুর্গমাসুরকে বধ করেন এবং চারবেদ ও সকল মন্ত্র কে উদ্ধার করেন তাই দেবী সর্বমন্ত্রময়ী ।
ভাবপ্রবণ বাঙালি মহিষমর্দিনী চণ্ডীকে ও দুর্গমনাশিনী দুর্গা কে এক মূর্তিতে প্রতিষ্ঠা করেছে।

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া,ইন্টারনেট

ছবিঃ Unsplash.com

Nirjon Niyaz (Tariq)

The Administrator Of WHQ Bangla

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *