ইলুমিনাতি সংঘ নিয়ে সঠিক ধারণা

ইলুমিনাতি নামটাই যেন একটা রহস্য।এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও মানুষ এখন পর্যন্ত এই সঙ্ঘের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান।এই ইলুমিনাতি কি আদৌ আছে নাকি অতীতের সাথে বিলুপ্ত এই সংগঠন সেটা নিয়েই আজকের এই আয়োজন।

1776 সালে বেভারি, জার্মানির একজন প্রফেসর এডাম ওয়েসপ্টের  হাত ধরে এই রহস্যজনক সংঘের যাত্রা শুরু।তখনকার যুগে খ্রিস্টান,বিশেষত ক্যাথলিক চার্চের গোঁড়ামি সহ্য করতে না পেরে তিনি মাত্র চারজন ছাত্র নিয়ে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।পরবর্তীতে তার বিভিন্ন কলিগ এবং তার সমমনা অনেক বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব এই সংঘের সাথে যুক্ত হন।এই সংঘের মূল লক্ষ্য ছিল ধর্ম নিরপেক্ষ একটি সমাজ গঠন করা।সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় প্রভাব কমানো। এই  সংগঠনকে অনেকটা আরেকটি সংগঠন ‘ফ্রিমেন্সন’ এর পরিবর্তিত রূপ হিসেবেও ধরা যায়। ফ্রিমেন্সন ও মধ্যযুগের একটি গুপ্ত সংগঠন ছিল।ধারণা করা হয়,ফ্রিমেন্সন সংগঠনের থেকে প্রভাবিত হয়েই ইলুমিনাতি সৃষ্টি।

Iconic temple of Ra the Sun God. Mythological enlightenment.

ইলুমিনাতি শব্দটি ল্যাটিন শব্দ থেকে আগত। Illuminati ল্যাটিন প্লুরাল শব্দ illuminatus থেকে এসেছে যার অর্থ Enlighten  বা আলোকিত করা।এই নামের সাথে তাদের মূল উদ্দেশ্য মিলে যাওয়ার কারণেই এই নামকরণ।তাদের নিজস্ব প্রতীক আছে যেখানে দেখা যায় একটি পিরামিডের উপরে একটি চোখ।এক চোখ দ্বারা মেসনিক সূর্য দেবতা ‘রে’ কে বুঝানো হয়। হ্যা, সেই মেসনিক দেবতার নাম থেকেই আজকে আমরা সূর্য কিরণকে ইংরেজিতে sun ray বলে থাকি। পিরামিডের চূড়া নিচের অংশ থেকে আলাদা কারন তারা বিশ্বাস করে যে মেসনিক প্রদেক শেষ হলেই তাদের দেবতা নীচে নেমে আসবেন। পিরামিডের উপরে ও নীচে 2টি মূলমন্ত্র লেখা যথাক্রমে  ANNUIT CÆTIS  এবং NOVUSORDO SECLORUM । প্রথমটির অর্থ দাঁড়ায় ‘প্রভু আমাদের প্রকল্প সমর্থন করেছেন’ এভং দ্বিতীয়টির অর্থ ‘ধর্ম নিরপেক্ষ নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা’। এখানে প্রভু বলতে ধারনা করা হয় যে তারা শয়তানকে নির্দেশ করে কারন সাধারণ ভাবে আমরা জানি যে ইলুমিনাতির মূল উদ্দেশ্যই হলো শয়তানের কাছে নিজেদের আত্মা সমর্পন করে শয়তানের মাধ্যমে স্বার্থ হাসিল করা,সাথে শয়তানের উপাসনা করা।

তবে ইলুমিনাতি নিয়ে যত ধারণাই থাকুক না কেন 1984 সালে জার্মান ক্যাথলিকেরা গোপন সংঘের খবর পেয়ে যান এবং সাথে সাথেই তারা সেই গোপন ডেরায় অভিযান চালিয়ে ইলুমিনাতির সকল বই,নথি বাজেয়াপ্ত করেন এবং তাদের সকল ভবিষৎ পরিকল্পনা বাতিল করে দেন। যদিও ধারণা করা হয় যে প্রফেসর এডাম বা ইলুমিনাতির প্রতিষ্ঠাতা পালিয়ে যেয়ে অন্য কোথাও আবার ইলুমিনাতি শুরু করেন কিন্ত সেটার পক্ষে এখনও কোনো সঠিক ধারণা পাওয়া যায় না যার কারনে ইলুমিনাতি আজও এক অভেদ্য রহস্যের নাম,যা মানুষের আগ্রহকে শতগুন বাড়িয়ে দেয় এ সম্পর্কে জানতে।

লিখেছেনঃ Nazia Farzana

Leave a Reply

Your email address will not be published.